জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ৬৮ কিলোমিটার হাওর রক্ষা বেরীবাঁধ নির্মানে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সরকার কর্তৃক ১৪ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়ে বেরীবাঁধের কাজ শুরু হয়। সরকার নির্ধারিত ২৮ ফেব্রুয়ারীর পর চারদিনের মধ্যে ১টি বেরীবাঁধের কাজ শেষ হওয়ার কৃষকেরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়, জগন্নাথপুরের উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নে হলিকোনা বাজারে পাশে নলুয়ার হাওরের পোল্ডার নং ২ এর ১৯নং প্রকল্প। উপজেলার সকল বেরীবাঁধের থেকে আলাদা বেরীবাঁধ ১৯ নং প্রকল্পের বেরীবাঁধ যেখানে সঠিক ভাবে মাটি ফেলা হয়েছে। নীতিমালা মেনে মাটি কাটা হয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পাশে থাকা পানির ডুবে যাবেনা। বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকা কম রয়েছে। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী বাঁধের পাশে সাইনবোর্ড সাটিয়ে রাখা হয়েছে। এ বাধেঁর নির্মানে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। এখানে যেভাবে কাজ হয়েছে তা দেখে এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, উপজেলার অন্য বাঁধের তুলনায় এ বাধেঁ কাজ ভাল হয়েছে। কুশিয়ারা নদীর ডান তীরের একটি বেরীবাঁধে কাজ শেষ হওয়ায় কৃষকেরা পিআইসির কমিটির সভাপতিকে ধন্যবাদ জানান। এভাবে সকল বাধেঁর কাজের জন্য দাবি জানান কৃষকেরা। এখানে বাঁধের নিকট থেকে মাটি উত্তোলন করা হয় নাই, বিধায় কাজটি মজবুধ হয়েছে। কৃষক বাচঁলে দেশ বাচঁবে এ কথাটি উপজেলার সকল বেরীবাধেঁর সভাপতি ও সেক্রেটারীর মনে রাখা প্রয়োজন। কেননা গত বছর জগন্নাথপুরের সর্ববৃহৎ হাওর নলুয়া ও মইয়াসহ ছোট বড় ১৫টি হাওরে হাওর রক্ষা বেরীবাঁধ নির্মানে নিম্ন মানের বেরী বাঁধ ভেঙে জগন্নাথপুরের সবক’টি হাওরের আধাপাকা ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে নানা কষ্টে জীবন যাপন করতে হচ্ছে আমাদের। এবার বোরো ফসল চাষাবাদের শুরুতেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পড়ি।হাওর থেকে দেরিতে পানি নামায় শুরু থেকে বোরো আবাদ ব্যাহত হতে থাকে। এর সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহের কারণে বীজতলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়। এরপরও আমরা থেমে নেই। জীবন-জীবিকার তাগিদে বুক ভরা আশা নিয়ে আমরা নেমেছি চাষাবাদে।
প্রকল্পের চেয়ারম্যান স্থানীয় ইউপি সদস্য তেরা মিয়া তেরাব জানান, কুশিয়ারা নদীর নিকটে বাধঁ থাকায় বাঁধের কাজ নিয়ে টেনশনে ছিলাম,বাধঁটি খুবই ঝুকিপূর্ন ছিল সময় মত কাজ শেষ করে এখন ফ্রি হয়েছি। আমি টেনশনে ছিলাম যে কোন সময় বৃষ্টিপাত হতে পারে, বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগে কাজটি শেষ হওয়ায় ভাগ্যবান মনে করছি। আর বৃষ্টি হলেই মাটির সংকটে পড়তে হত আমাকে। সকলে সহযোগীতায় কাজ শেষ হওয়ায় সকল কৃষক সহ স্থানীয় প্রশাসনের সকলকে ধন্যবাদ জানাই।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/৫ মার্চ ২০১৮/রুহুল আমিন